বিপত্তি কি তাহলে মাশরাফির ফিটনেসে?

আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশ কেমন করবে তা নিয়ে যতটা না সমালোচনা, তার চেয়ে বেশি সমালোচনা প্রাথমিক স্কোয়াডে মাশরাফির না থাকা। তাহলে আসল বিপত্তিটা কি মাশরাফির ফিটনেসে নাকি অন্যকিছু?

চলুন এই ব্যাপারটাকে দুই ভাগে ভাগ করা যাক। মাশরাফির নাম হিসেবে, একজন মাশরাফি হিসেবে বিবেচনা করলে এটুকু সবাই এক বাক্যে বলে দিবে, জাতীয় টিমের জন্য মাশরাফি কতটা অপরিহার্য ছিল এবং আছে।দীর্ঘ 18 বছরের ক্যারিয়ারে সে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে যা অন্য কোন প্লেয়ার দিতে পারেনি। তার ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই কেউ তুলবে না।সে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা একজন ক্যাপ্টেন এবং প্লেয়ার।

এখন বর্তমান টিম কন্ডিশনে প্লেয়ার হিসেবে মাশরাফি কেমন। দেখুন যদি ফিটনেস নিয়ে বলি, মাশরাফি কখনোই শতভাগ ফিট ছিল না।পায়ে সাতটা সার্জারির পর থেকে সে খেলে যাচ্ছে। যদিও 2019 সালের মার্চ পর্যন্ত সে ক্যাপ্টেন ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মাশরাফি তার ক্যাপ্টেন্সির জোরেই বাংলাদেশ দলে অনেকটা দূর চলে এসেছে। যেদিন থেকে মাশরাফি তার নেতৃত্ব ছেড়ে দিবে, সেদিন থেকে তার ইম্পর্টেন্স অনেকটা কমে যাবে এটা আমার ভাবনায় ছিল।

একজন সিলেক্টর হিসেবে আপনি কখনই চাইবেন না যে আপনার টিমে এমন একজন থাকুক যে শতভাগ ফিট নয়। কিন্তু নামটা যখন মাশরাফি তখন প্রসঙ্গ টা আলাদা। তবে বর্তমানে মাশরাফির দলে না থাকা অনেকটাই স্বাভাবিক। যেহেতু এখন মাশরাফি ক্যাপ্টেন নয়,সেহেতু প্লেয়ার হিসেবে তার কতটুকু অ্যাবিলিটি সেটাই ইম্পর্টেন্ট। এবিলিটি বললে ভুল হবে, তার ক্রেডিবিলিটি কতটুকু সেটা জানা দরকার। আরেকটি ব্যাপার মাশরাফির অবসর নিয়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মাশরাফির সেদিনই অবসর নেয়া উচিত ছিল যে দিন সে ক্যাপ্টেন্সি ছেড়েছিল। যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনির কথা ভাবেন। 2019 বিশ্বকাপের পর সে যখন বুঝতে পারে, তাকে হয়তো আর দলে ডাকা হবে না তখনই সে নিরবে অবসরে বার্তা পাঠায়। মাশরাফি ও ঠিক তেমনটাই করবেন সেটা কথা না। তবে তার ভাবনা আরেকটু পরিপক্ক হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশের একজন লেজেন্ড হিসেবে মাশরাফির সম্মান অনেক, যার লেভেলে হয়তো কেউ নেই। তবে আপনি যখন টিমের কথা চিন্তা করবেন, যখন আপনি একজন প্লেয়ার, তখন সমসাময়িক ঘটনা গুলো সামনে আসবে।মাশরাফি বড়জোর কতদিন কন্টিনিউ করবে সেটা সেই জানে, কারণ এতদিন কন্টিনিউ করাটাই তার পক্ষে অনেক ছিল। নির্বাচক প্যানেল, কোচিং স্টাফ, বোর্ড প্রেসিডেন্টের ভাবনা গুলো মোটেও অযৌক্তিক হবে না যখন মাশরাফি শুধু একজন প্লেয়ার হিসেবে বিবেচ্য। শুধু একজন বোলার হিসেবে বিবেচ্য।